কুড়ি ঘন্টার ব্যবধানে ট্রফির ডাবল ইস্টবেঙ্গলের


বৃহস্পতিবার রাত্রে রণজ্যোৎ সিং খাইরার উইনিং শট মারার পরেই লাল-হলুদ ব্রিগেডের উচ্ছাসে মাতোয়ারা হয়েছিল রাত্রের ইডেন গার্ডেন্স। সদ্যসমাপ্ত আইপিএলের মাদকতা ছিলোনা তার মধ্যে, কিন্তু ক্লাবহাউসের বাঁ-দিক ঘেঁষে দাঁড়ানো ভদ্রলোকের উচ্ছাসে ছিলো অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন।
সেই ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি শুক্রবারের দুপুরে ছিলো প্রায় জনশূন্য। তার মাঝেই কালীঘাট ক্লাবকে ছয় উইকেটে পরাজিত করে মরশুমের দ্বিতীয় ট্রফি ঘরে তুললো ইস্টবেঙ্গল। নায়ক হিসেবে থেকে গেলেন সেই রণজ্যোৎ সিং খাইরা। কালীঘাটের বিরুদ্ধে ১০২ বলে তাঁর ৯৪ ইস্টবেঙ্গলের ট্রফি জয়ে অন্যতম বড়ো অবদান রাখলো।


প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অনেকটা বেশি বল খেলে ফেলছিলেন কালীঘাট ব্যাটাররা। কিপার অভিষেক মিত্র এবং অধিনায়ক শুভম চ্যাটার্জী যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ রান করলেও দুজনেই খেলে ফেলেন ২৮টি করে বল। চার নম্বরে অভিজ্ঞ ঋতম পোড়েল নেমে মাত্র ৬ রানের মাথায় ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক সোহম ঘোষের বলে ফিরে যেতেই কালীঘাটের পতন শুরু হয়। ঋতম ছিলেন লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং তাঁকেই দ্রুত ফিরিয়ে দিতে পারাটা ইস্টবেঙ্গলকে বেশ ভালো জায়গায় পৌঁছে দেয়। ওপেনার শ্রেয়ান্স ঘোষ ৫০ রান করলেও অনেক বেশি বল খেলে ফেলেন এবং পরের দিকে রবিকান্ত শুক্লা এবং বদুপল্লী অমিতের ভালো স্ট্রাইক রেটের ইনিংসও কালীঘাটকে ম্যাচে ফেরাতে পারেনি। অমিত ৩৬ বলে ৪২ রান করেন এবং রবিকান্ত করেন ৪৪ বলে ৩৩। কিপার বিদ্যুৎ অধিকারী থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ লোয়ার অর্ডার ব্যর্থ হয় এবং কালীঘাট ১৯৭ রানে শেষ হয়ে যায়। ইস্টবেঙ্গল দলের হয়ে সৌরভ মন্ডল, সোহম ঘোষ এবং শ্রেয়ান চক্রবর্তী ২টি করে উইকেট পান এবং রোহিত কুমার, সায়নশেখর মন্ডল, অয়ন ভট্টাচাৰ্য ও শুভঙ্কর বল ১টি করে উইকেট পান।


ব্যাট করতে নেমে প্রীতম চক্রবর্তীর বলে কট-বিহাইন্ড হয়ে অঙ্কুর পাল ফিরে গেলেও রণজ্যোৎ খাইরা এবং সুদীপ ঘরামি দ্রুত খেলা ধরে নেন। খাইরা এবং ঘরামি নিজেদের মধ্যে ১৩৫ রানের পার্টনারশিপ করেন ১৩৬ বলে। এরপরে ঘরামি ও সায়নশেখর মন্ডলকে মিথিলেশ দাস পরপর ফেরালেও একদিক ধরে রাখেন রণজ্যোৎ। ব্যক্তিগত ৯৪ রানের মাথায় খাইরাকে মিথিলেশ ফেরালেও ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। খাইরা ফেরার পরে যে ১৪ রান বাকি ছিল তা শুভঙ্কর বল এবং অয়ন ভট্টাচাৰ্য সহজেই তুলে দেন।