একাধিক তরুণ নিয়ে দলগঠন ইস্টবেঙ্গলের। ট্রফি জয় লক্ষ্য সায়ন শেখর- আকাশ-সুশান্তর।


গতবছর লিমিটেড ওভারে সবকটি টুর্নামেন্টেই ট্রফি বিজেতা হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এইবছর তাঁরা অবশ্যই চাইবে দুটি লিমিটেড ওভারে সেই ট্রফি জয় ধরে রাখার, এবং সেই সঙ্গে লাল বলের খেলাতেও তাঁরা চাইবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে।
এই বছর ইস্টবেঙ্গল কোচিং প্যানেলে এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। গতবছর কোচ থাকা প্রণব নন্দী, কাঞ্চন মাইতি চলে গিয়েছেন মোহনবাগানে। এবার ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়েছেন সম্বরন ব্যানার্জী, সুশীল শিকারিয়া এবং সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ হিসেবে আছেন গতবছর মোহনবাগান দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা রাকেশ কৃষ্ণন।


এই বছর ইস্টবেঙ্গল দল সাজিয়েছে খুব ব্যালান্সডভাবে। ব্যাটার হিসেবে অঙ্কুর পাল, দিগন্ত নিয়োগী, সচিন কুমার যাদব, অর্ক প্রতিম দাস, অভিরূপ গুপ্ত, আমিতোজ সিংয়ের মতো তরুণরা ছাড়াও রয়েছেন প্রসেনজিৎ দাসের মত অভিজ্ঞ ব্যাটার। অলরাউন্ডার এই দলে অনেক। দলে আছেন সায়ন শেখর মন্ডল, সোহম ঘোষের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, আবার রয়েছেন সৌগত দত্ত, শোয়েব লতিফ, আকাশ ঘটকের মতো তরুণরাও। বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো নাম ঈশান পোড়েল। সেই সঙ্গে আছেন সৌম্যদীপ মন্ডল, সুশান্ত দাস। এছাড়াও অনিক ব্যানার্জী, আকাশ পান্ডে, রোশান সিং, সৌভিক ঘোষ,আদর্শ সিং,সানি প্যাটেল, অনুজ সিং। কিপার হিসেবে থাকছেন মহম্মদ আরিফ আনসারী।
দলে এইবছর চার নম্বর মরশুম অভিজ্ঞ সায়ন শেখর মন্ডলের। “আমি এই ক্লাবে খেলছি, আবহাওয়া ভালো এবং পারফরমেন্সও করতে পারছি। সেই জন্য আরো এক বছর থাকলাম।” কোচিং প্যানেল এই বছর অনেকটা পরিবর্তিত। সেই নিয়ে সায়ন বললেন “আমি সুশীলদা ও অন্যদের সঙ্গে অনেক বছর খেলেছি। তাঁরা খুব বড়ো নাম এবং আমি ওনাদের সঙ্গে খেলার জন্য খুব উৎসুক।”
এই বছর বাংলা দলে খেলার জন্য প্রথম ২৩ এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন আকাশ ঘটক। আকাশ বললেন “ইস্টবেঙ্গল দলে প্রথমবার খেলছি। ইস্টবেঙ্গল খুব বড়ো নাম, ভেবে ভালো লাগছে।” আকাশ চান এইবছর ক্লাবকে তিনটে ট্রফি দেওয়ার পাশাপাশি বাংলা দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিতে।
কাস্টমস থেকে এইবছর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে এসেছেন নদীয়া জেলার পেসার সুশান্ত দাস। সুশান্ত তার ক্লাব পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বললেন “কাস্টমস ক্লাব খেলা আমার জন্য একটু কঠিন হচ্ছিল কারণ এই ক্লাবে খেলার থেকে অন্য কিছু বেশী হতো। সুতরাং ক্লাব ছাড়বো আগে থেকেই ঠিক ছিল। আমি ফাইনাল জিতিয়ে দেওয়ার পরে ক্লাব আমার সাথে সেইভাবে কথা বলেনি।” এইবছর নিজের পারফরমেন্স নিয়ে কতটা আশাবাদী তিনি? সুশান্ত বললেন “ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আমাকে কিছু একটা ভেবে নিয়েছে এবং আমি সেই জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবো। আমি চেষ্টা করবো প্রমাণ করার যে আমি শেষ হয়ে যাইনি। বড়ো ক্লাবকে ট্রফি দিতে পারলে সবার কাছে সন্মান পাওয়া যায়। আমি সন্মান নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চাই।”