অগ্নিভ এক ইনিংসে ট্রফি প্রায় হস্তগত ভবানীপুরের

দিনের শুরুতে যখন ব্যাট করতে নামছেন তখন তিনি সদ্য পেরিয়েছেন ৫০। লিড পেতে যখন ভবানীপুরের প্রয়োজন মাত্র ৩৮ তখন প্রীতম চক্রবর্তীর বলে অগ্নিভ পানের তোলা ক্যাচ ফেলে দেন অধিনায়ক শুভম চ্যাটার্জী। ব্যাস! এখানেই যেন হয়ে গেল ম্যাচের ফলাফল চূড়ান্ত। প্রীতম চক্রবর্তী বললেন “এর পরে আর এসব ব্যাটার কি চান্স দেয়?”


দিনের সেকেন্ড-লাস্ট বলে যখন অরিত্র চ্যাটার্জীর বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে কিপার বিদ্যুৎ অধিকারীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন অগ্নিভ পান তখন তার খেলা হয়ে গিয়েছে ৩৩৩টি বল এবং করে ফেলেছেন ১৯৫ রান। আজ তাঁর ইনিংসের গুরুত্ব এতটাই যে ৫ রানের জন্য দ্বিশতরান হারানোর ব্যর্থতার চেয়ে ভবানীপুরকে সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করার পরিতৃপ্তি যেন ঢের বেশি।
ইনিংসের ৪৫তম ওভারে অভিষেক দাস আউট হওয়ার পরে যখন ব্যাট করতে আসেন অগ্নিভ তখন থেকেই যেন তিনি ছিলেন শক্ত গাঁথুনির দেওয়াল হয়ে। কালীঘাট পেসার প্রীতম চক্রবর্তীর প্রথম বল সোজা ব্যাটে খেলা থেকে শুরু করে বদুপল্লী অমিত, অরিত্র চ্যাটার্জীদের সম্পূর্ণ ভোঁতা করে দেওয়া সব কিছুই করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। ভবানীপুরের ইনিংস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে অগ্নিভ পান আসার পরে অর্থাৎ ৪৫তম ওভার থেকে শুরু করে আর পরের প্রায় ১০০ ওভার ভবানীপুর ব্যাট করেছে ওভার প্রতি তিন রান-রেট রেখে এবং একটা ওভারের জন্যও পতন হয়নি সেই রান-রেটে। কালীঘাট যেখানে একটা সময় বেশ ধারাবাহিক উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানে শেষ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ খেলার নিজস্ব স্থিতাবস্থা এবং গতি ধরে রেখেই আজ সাফল্য পেয়েছে ভবানীপুর।


অগ্নিভ পানের ইনিংস আজ সাজানো ১৭টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে। ঐসব শটে আসা রান বাদ দিলে তিনি মোট ১২টি দুই রান, একটি ৩ রান এবং ৯৪টি সিঙ্গল নিয়ে। এই ইনিংসটির বিশেষত্ব এই যে রানের অধিকাংশই এসেছে সিঙ্গলস ও ডাবলসে অর্থাৎ দৌড়ে রান নিয়ে। কলকাতার আর্দ্রতা উপেক্ষা করে এই এনার্জি দেখিয়ে একসময়কার অ্যাথলেটিক্স পদক জয়ী ছেলেটা দেখিয়ে দিল সে কতটা ফিট এবং কি করতে পারে সে!
বাংলার হয়ে শেষ রনজি ট্রফি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০১৯ সালে। রনজি ট্রফিতে ভালো কিছু করতে না পারলেও সাদা-বলের ক্রিকেটে একাধিক ভালো ইনিংস খেলেছেন পান। ২০২০ সালে করোনা আবির্ভাবের পরে প্রথমে শ্রীবৎস গোস্বামী এবং পরে অভিষেক পোড়েলের কাছে জায়গা হারান অগ্নিভ। অবস্থা এমনই হয় যে লাল-বলের ক্রিকেটে দ্বিতীয় কিপার হিসেবে বাংলা শাকির হাবিব গান্ধীকে নির্বাচিত করলেও উপেক্ষা করে তাঁকে। বর্তমানে সুপার লিগ নক-আউট স্তরে তাঁর একটি হাফ সেঞ্চুরি এবং একটি বড়ো সেঞ্চুরি রয়েছে। এর আগের বছর জে. সি. মুখার্জী ট্রফির ফাইনালে তাঁর অসাধারণ ৬২ ভবানীপুরকে জেতায়। আজ আবার জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে চলেছেন পান।
বাংলার ক্যাপ ফিরে পেতে কি আর খুব বেশী দেরি আছে?