ভিভিএস-রাহুলের পর ৮৪ বার ফলো অন করায়নি টেস্ট ক্রিকেট!

সেই যে লক্ষ্মণ-রাহুল আর বিনা মজুরির দিনভর খাটানের গল্প ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাথের!
আজ ১৫ মার্চ বলে নয়। দিনটা মনে পড়ার কারণ, সকালে দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর শিরোনাম। ‘৪০৮ রানে এগিয়েও ফলো অন করাল না অস্ট্রেলিয়া’।
ওই যে প্রবাদে আছে না, যেখানে কার ভয় সেখানেই নাকি সন্ধ্যে হয়!
উপমহাদেশের করাচিতে এখন বাবর আজম – আজহার আলিতেই ভিভিএস-রাহুল দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। তার ওপর মার্চ মাসের মধ্যভাগে, সেই ‘প্রখর দারুণ অতি দীর্ঘ দগ্ধ দিন’!
হঠাৎ মনে এল, একটু খুঁজে দেখলে হয়। সেই ২০০১ সালে ইডেনের পর থেকে ফলো অন ব্যাপারটা ঠিক কতটা বদলে দিয়েছিলেন দুই ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
যা পাওয়া গেল, চোখ কপালে।
২০০১ সালের সেই ইডেন টেস্টের পর মোট ৮৪ বার ফলো অন করিয়েছে টেস্ট-খেলিয়ে দেশগুলো। মানে, ২০০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যাওয়ার পর বিপক্ষ দলকে আবার ব্যাট করতে বলেছে। কিন্তু এই তথ্যে ততটা বিস্ময়ের উপাদান নেই, যা রয়েছে পরের তথ্যে। সেই ৮৪ বারই ফলো অন করানো হয়নি!
টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১৯২৮ সাল থেকে ২০০১-এর ইডেন টেস্ট পর্যন্ত, মাত্র ১৮ বার এমন ঘটনা ঘটেছিল। অর্থাৎ, ২০০-র বেশি রানে এগিয়ে থেকেও ফলো অন করানো হয়নি মাত্র ১৮ বার, ৭৩ বছরে। পরের ২০ বছরে সেটা ৮৪ বার!
ভেরি ভেরি স্পেশাল লক্ষ্মণ আর রাহুল দ্রাবিড় স্টাম্প অক্ষত রাখায় এবার তথ্যের নিশ্চিত ‘স্ট্যাম্প’ পড়ল যে, ফলো অন করানো এখন আর প্রথা নয় ক্রিকেটে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে যাওয়ার মতোই, ২০০-র বেশি রানে এগিয়ে থাকলে বিপক্ষকে আবার ব্যাট করতে ডাকার মধ্যে যে দাপট ছিল, আজকের ক্রিকেটে উধাও সেই ভাবনা। বরঞ্চ, জিততে চেয়ে দাপট ছুড়ে ফেলে সাবধানী সব দল। জিততে না পারি ক্ষতি নেই, যেন না হারি!


আসলে সেই ক্ষতে প্রলেপ যে আজও পড়েনি, আবার প্রমাণ দিল করাচি। বাবর আজম শতরান করে ফেলেছেন, আবদুল্লা শফিক ৭১ রানে অপরাজিত। দুই পাক ব্যাটসম্যানের ব্যাটে তৃতীয় উইকেটে আপাতত ১৭১ রান উঠেছে, আর অস্ট্রেলীয়রা ঘুমোতে গিয়েছেন চতুর্থ দিনের শেষে নিজেদের সান্ত্বনা দিতে দিতে যে, বারবার হয় না বলেই ইডেন এখনও অনন্য। একটা উইকেট ঠিকই দেবে করাচি। তা ছাড়া, বরাভয়, চতুর্থ ইনিংসে যে ব্যাট করতেও হবে না আর!
তাই তো নাম-কা-ওয়াস্তে একটা ৯৭-২ খেলেই দ্বিতীয় ইনিংস ছেড়ে দেওয়া। একশোও দরকার নেই, পাঁচশো পেরলেই হল। ৪০৮ আর ৯৭ মিলিয়ে ৫০৫ রানের ‘লিড’, পাকিস্তানের জয়ের জন্য লক্ষ্য ৫০৬। প্রসঙ্গত, ইডেনে তো স্টিভরা মাত্র ২৭১ রানে এগিয়েই ফলো অন করিয়েছিলেন। এখন ৪০৮ রানে এগিয়েও যে-সাহস দেখাতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া। ভীতি ঠিক এতটাই!
ভিভিএস একাই সেবার সেই ২৭১ টপকে দশ রানের ‘লিড’ দিয়েছিলেন ভারতকে! বাবর আজমের কাছে তত বড় আশা করবে না পাকিস্তান, ঠিক। আজহার আলি আউট হয়েছিলেন ২২.২ ওভারে। তারপর ৬০ ওভার (অঙ্কের হিসাবে ৫৯.৪) খেলে ফেলেছে পাকিস্তান, আর কোনও উইকেট না খুইয়ে। এই ৩৫৮ বলের মধ্যে ১৯৭ বল খেলে ফেলেছেন অধিনায়ক বাবর, শতরানও পূর্ণ করে ফেলেছেন। শফিক অন্যপ্রান্তে খেলছেন উইকেট বাঁচানোর খেলা।
পাকিস্তান জিতবে না, হয়ত নয়, ঠিকই। শেষ দিন ৩১৪ তুলতে হবে নির্ধারিত ৯০ ওভারে, প্রায়-অসম্ভব লক্ষ্য সামনে, হাতে আট উইকেট। তবু, ক্রিকেট তো, অনিশ্চয়তার ইতিহাস। সকালে তাড়াতাড়ি একটা দুর্দান্ত বল বা মনঃসংযোগে ব্যাঘাত পাক-অধিনায়কের, কেল্লা ফতে!
পাক-সমর্থকদের প্রার্থনা অবশ্য একটাই, বুধবার যেন লক্ষ্মণ হয়ে ওঠেন বাবর!

বিঃদ্রঃ তখন, সেই ২০০১ সালেও, ইডেনে টেস্ট ম্যাচ ‘কভার’ করতে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের দেওয়া হত ‘প্রেস বক্স’ ছাপমারা টিকিট, পাঁচ দিনের পাঁচটি। সেই ১৪ মার্চ-এর টিকিটটা যার একটা দিকের ওপরে একটু অংশ ছিড়ে দিয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা ক্লাবহাউসের গেটে, অনেক বছর রেখে দিয়েছিলাম, সুপ্ত আশায়, ভিভিএস এবং রাহুলের সই নিয়ে ঐতিহাসিক-অমূল্য করে তুলব টিকিটটাকে। তারপর, কোথায় যে ফেললাম হারিয়ে!!