চ্যালেঞ্জপ্ৰিয় এক ক্রিকেটার- অমিত ব্যানার্জী


“ওর একটা জায়গা আছে, সেটা সম্পূর্ণ ওর কেনা জায়গা। সারাদিন ওখানে বল করবে আর তুই শট নিতে পারবিনা।”- অম্বরীশ মিত্রকে একদিন অমিত ব্যানার্জী সম্পর্কে প্রশ্ন করায় তিনি বলেছিলেন এই কথা। এরপর যখন কাশিতে জর্জরিত অমিত ব্যানার্জী ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ফোন ধরলেন তখন যেন তার গলাতেও ঝরে পড়লো একইরকম কথা। তার বিশেষত্ব নিয়ে তাকে প্রশ্ন করায় তন্ময় মহাপাত্রের ছাত্র অমিত বললেন যে একজন বাঁহাতি অর্থডক্স বোলারের যা শক্তি হওয়া উচিত অর্থাৎ টার্ন, লুপ সবই থাকার পাশাপাশি ব্যাটারকে তিনি আউট করাতে ভালোবাসেন। অর্থাৎ স্লিপ অঞ্চলে, গালিতে ক্যাচ তোলাতেই যেন বিশ্বজয়ের সুখ উত্তরপাড়ার অমিতের।


বাংলার হয়ে এই বাঁহাতি স্পিনার যাত্রা শুরু করেন অনুর্ধ-১৭ স্তরে। প্রথম ম্যাচেই কর্ণাটক দলের বিরুদ্ধে তুলে নেন ৬টি উইকেট, যার মধ্যে দুটি ছিল রবিন উথাপ্পা এবং রাজু ভাটকালের। শুধু এটুকুই নয়, তার উইকেটের ঝুলিতে রয়েছে অজিঙ্ক রাহানে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো বড়ো নামও। রেকর্ড বই বলছে ২০০৩-০৪ সালের বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে অমিত ৪৫টি উইকেট তুলে নেন যা ছিল বাংলার হয়ে সর্বোচ্চ। কোয়ার্টার ফাইনালে হরিয়ানার বিরুদ্ধে ৭৭ রান করার পরে বল হাতে ৫ উইকেট নেন। ফাইনালে উত্তর প্রদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে একটি হাফসেঞ্চুরিও করেন তিনি। তার পরের বছর বিনু মানকড় ট্রফিতে মাত্র ৪৯ ওভার বল করে ৮টি উইকেট তুলে নেন তিনি। ওই বছর কোচবিহার ট্রফি বেশ সাদামাটা হলেও পরের বছর অনুর্ধ-১৯ বিজয় হাজারে ট্রফিতে তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৩.৪১! তার পরের কোচবিহার ট্রফিতে তিনি ২০ উইকেট তোলেন এবং আবার হন বাংলার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।
কলকাতা ময়দানে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন বি.এন. আর,ওয়াই. এম. সি. এ, টাউন, ভবানীপুর, কালীঘাটের মতো বড়ো ক্লাবে। কিন্ত বিগত বছর চলে যান শিবপুর ইনস্টিটিউট ক্লাবে যা কিনা একটি দ্বিতীয় ডিভিশনের দল। কিন্ত এরকম দল পরিবর্তন কেন? জিজ্ঞাসা করায় বলেছিলেন “প্রথম ডিভিশনে যে খেলবো সেই মোটিভেশন আর নেই। সুতরাং ফিরে গেলাম দ্বিতীয় ডিভিশনে। দ্বিতীয় ডিভিশনে তার যাওয়াও বেশ জমকালো। শিবপুর ইনস্টিটিউটকে প্রায় একার হাতে তুলে দিয়েছেন প্রথম ডিভিশন ক্রিকেটে।


ময়দানের অভিজ্ঞ কোচ বিভাস দাস বলেন “অমিতের বল হাওয়ায় ঘুরে লুপ করে অদ্ভুতভাবে স্ট্যাম্পে পড়ে আর বাইরে টার্ন করে।” ময়দানে গেম রিডিংয়ের জন্য বিখ্যাত নাম অর্ণব নন্দী বলেন “ও টার্ন আর লুপ খুব ভালো করাতে পারে।” এরকম একজন কোয়ালিটি ক্রিকেটার হয়েও নামের পাশে মাত্র চারটি রনজি ট্রফি ম্যাচ। তাতে পারফরমেন্স হলো সর্বমোট ১০৪ রান এবং ৯টি উইকেট যার মধ্যে আছে দুইবার তিন উইকেট নেওয়ার নজির। ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মধ্যপ্রদেশ দলের বিরুদ্ধে অবনমন বাঁচানোর ম্যাচের প্রথম ইনিংসে, উল্লেখ্য সুদীপ চ্যাটার্জীর পরে সেটি ওই ইনিংসের সর্বোচ্চ রান। হয়তো ভাগ্য সাথে থাকেনি, কিন্ত তারপরেও অমিত ব্যানার্জী খেলেছেন বিভিন্ন বড়ো ক্লাবে এবং লীগেও জিতেছেন, এছাড়াও তিনি লিগে পরপর চার বছর ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। এই নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি? অমিত বললেন “আরো বেশী ম্যাচ আশা করেছিলাম। আমি যে কটা ম্যাচ পেয়েছিলাম তাতে নিজেকে উজাড় করে পারফরমেন্স করেছি।
বর্তমানে তিনি রাহুল দেবের ক্রিকেট ক্যাম্প এর একজন কোচ। ইন্টারভিউ এর শেষে প্রশ্ন করি এবার কি তবে আবার ফার্স্ট ডিভিশন? অমিত বলেন “না। এবার ক্যালকাটা পোর্ট জয়েন করছি।” অর্থাৎ সেই ক্যালকাটা পোর্ট যারা কিনা গতবার অবনমন বাঁচাতে নেমে হেরে যায় এবং এবার খেলছে দ্বিতীয় ডিভিশনে। এবারও কি তবে আবার প্রথম ডিভিশনে একটি দলকে তুলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ? অমিত স্মিতহাস্যে বললেন “নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো।”