যদি কোহলি ফর্মে না ফিরতেন!

সেমিফাইনালে হারলো ভারত। সে তো হারলোই, কিন্তু প্রকৃত চিত্রটা কী দাঁড়ালো? পরপর দুটো টি২০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারত এবারের পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়া জিতেছে শুধুমাত্র আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। গত এক বছরে দুটো বিশ্বকাপ এবং এশিয়াকাপ মিলিয়ে একমাত্র পাকিস্তানকে দুবার হারানো ছাড়া কোন বড় দলের বিরুদ্ধে ভারত জিততে পারেনি। আর এই দলের কাছ থেকে আমরা আশা করেছিলাম বিশ্বকাপ!

বাধ্য ছাত্রের মতো পুরো বছর পড়াশুনা করে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল ভারত। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই শুরু হয়েছিল এই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। বিশ্বাস করুন মধ্যবর্তী সময়ে শুধু বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি হিসেবে, সঠিক দল বেছে নিতে আমরা খেলেছি ৩৫টি টি২০ ম্যাচ! আর তারপর অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কপাল জোরে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ ছাড়া নেদারল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে বাড়ি ফিরছি। থুড়ি, ফিরছি না, নিউজিল্যান্ড যাচ্ছি। ওদের হারাতে হবে তো!

দুর্ভাগ্যের বিষয় এই ৩৫টা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেও একটা সেরা এগারো বানানো যায়নি। সঠিক ভাবে ভাবলে চারজন খেলোয়াড়কে ঘিরে দলটা অবর্তীত হওয়া উচিত ছিল – সূর্য, হার্দিক, জাদেজা, বুমরা। অথচ এদের মধ্যে দুজন চোটের জন্য বিশ্বকাপে যেতেই পারলেন না। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কীভাবে বিশ্বকাপের দু মাস আগে এবং এশিয়া কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা চলাকালীন ওয়াটার স্পোর্টসের এডভেঞ্চার উপভোগ করতে গিয়ে গুরুতর চোট পান, এর উত্তর দেওয়ার মতো লোক এই দলের ম্যানেজমেন্টে নেই। সেই সঙ্গে এই উত্তরও পাওয়া যাবে না যে একজন বোলার চোট থেকে ফেরার পর মাত্র দেড় ওভার বল করে সেই একই জায়গায় কী করে চোট পান!

তেমনই উত্তর পাওয়া যাবে না যে দলে রাহুল, কার্তিক, পন্থ-এর আলাদা আলাদা করে কী ভূমিকা? রাহুলের উপর যদি দলের এতই আস্থা থাকে, তাকে দিয়ে কিপ করিয়ে তো বাড়তি অলরাউন্ডার বা ব্যাটার খেলানোই যায়, যিনি দ্রুত রান তুলতে পারবেন। ক্রিকেটে যে ফরম্যাট স্পেশালিস্ট দাবী করে সেখানে মাল্টিস্কিলড খেলোয়াড় খেলানো হয় কিন্তু যে ফরম্যাট সবচেয়ে বেশি অলরাউন্ডার দাবী করে সেখানে অলরাউন্ডার দলে নিতে যে কিসের এত অনীহা, সেটা একমাত্র ক্রিকেট ঈশ্বর-ই জানেন। যেখানে ইংল্যান্ড দল সপ্তম বোলার হিসেবে মঈন আলি কে ভাবছে সেখানে পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতের ষষ্ঠ বোলারকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হলো, ছয় নম্বরের পর ব্যাটার নেই অথচ উল্টোদিকের শিবিরে ক্রিস ওকস এর মতো খেলোয়াড় নয় নম্বরে নামেন। শুরুতে ৩৫টা ম্যাচের কথা বলেছিলাম মনের আছে? ওই ৩৫টা ম্যাচ খেলে প্রাপ্তি শুধুই সূর্য কুমার যাদব এবং কিছুটা অর্শদীপ সিং! হয়তো এইসব দেখে বা বুঝেও চুপ থাকতে হয় অধিনায়ককে কারণ তার ব্যাটেও যে এই ফরম্যাটে দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে রান নেই। আর তাই ম্যাচ শেষে চাপ সামলাতে না পারার তত্ত্ব আওড়াতে হয়। 

যদিও হতাশ হওয়ার কিছু নেই, সিটবেল্ট বেঁধে ফেলুন। সাতদিন পর থেকেই আমরা নেমে পড়ছি মাঠে। আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সিরিজ খেলতে। ভুলে গেলেন! একবছর পরেই যে পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ এবং দুই বছরের মধ্যে আবার টি২০ বিশ্বকাপ! দেখবেন এবার আমরা ট্রফি জিতবোই, তবে শুধু বিশ্বকাপটা দু-দলের প্রতিযোগিতা করে দিতে হবে। কোন ব্যাড ডে ইন অফিস হবে না, চাপ সামলাতে শিখে যাব আইপিএল খেলে। আর হ্যাঁ, খেয়াল রাখতে হবে যে দলে যেন একজন কোহলি-ও থাকেন, যিনি তিন বছর পর ফর্মে ফিরে দলকে বিরাট লজ্জার হাত থেকে বাঁচাবেন। সেদিন মেলবোর্নে কোহলি না থাকলে ভারত পরপর দুটো বিশ্বকাপে একটাও বড় দলকে না হারাতে পারার গৌরব অর্জন করতো! এখনও ভাবলে শিউরে উঠতে হচ্ছে, যদি কোহলি ফর্মে না ফিরতেন!