ম্যাচে ঠিক কোন জায়গায় তামিলনাড়ুকে হারালো বাংলা?

ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সাদা বলের ক্রিকেটে অন্যতম ‘পাওয়ারহাউস’ ধরা হয় তামিলনাড়ু দলকে। দক্ষিণী এই দল বারবার অন্যান্য রাজ্যকে টোয়েন্টিতে পরাজিত করে পেয়েছে সেরার শিরোপা।
আজ লখনৌর একানা স্পোর্টস সিটিতে সেই দলকে সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে ৪৩ রানে পরাজিত করাকে একটি দুর্দান্ত প্রাপ্তি হিসেবেই ধরা যায় বাংলার জন্য।
আসুন দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন জায়গায় আজ তামিলনাড়ু পরাজিত হলো বাংলার কাছে?


১) সুদীপ ঘরামি-অভিমন্যু ঈশ্বরণ পার্টনারশীপ:-
প্রাথমিকভাবে ইনিংসের শুরুতে রাণজ্যোৎ সিং খাইরা সাই কিশোরের বলে আউট হয়ে ফেরার সময়ে বাংলার স্কোর ছিল ২ ওভারে ৯-১। এরপর তৃতীয় ওভার সন্দীপ ওয়ারিয়ার বল করতে এলে নিজের খেলা প্রথম দুটি বলেই ৭ রান সংগ্রহ করেন সুদীপ ঘরামি। এরপর মাঝে মাঝেই পাওয়ারপ্লে খেলার সুযোগ নিয়ে চার মারতে থাকেন সুদীপ-অভিমন্যু। তাদের মধ্যে পার্টনারশীপ স্থায়ী হয় ৩৩ বল, তবে এই সময়ে বাংলার স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয় ৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ রান।
২) ঋত্বিক রায়চৌধুরীর ইনিংস:-
অভিষেক পোড়েল ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে রাণজ্যোৎ সিং খাইরার পরিবর্তে আসার পর যখন ব্যক্তিগত ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হন তখন সাফল্যে ফুটতে থাকা ওয়াশিংটন সুন্দরকে ভয়ঙ্কর হওয়া থেকে আটকান ঋত্বিক রায়চৌধুরী। শুরুর দিকে কিছু বল খুব দেখে খেলে একসময় ২০ বলে ২৭ রানে ব্যাট করছিলেন ঋত্বিক। কিন্তু নিজের ইনিংসের শেষ ৯টি বল সেইভাবে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবুও অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে ৩০ রানের পার্টনারশীপ এবং শাহবাজ আহমেদের সঙ্গে ৪৩ রানের পার্টনারশীপে ঋত্বিক বেশ ভিত শক্ত করেন বাংলার।
৩) সাব্বাস শাহবাজ:-
অভিমন্যু ঈশ্বরণ বরুণ চক্রবর্তীর বলে আউট হয়ে ফেরার ঠিক পরেই ক্রিজে আসেন সদ্য ভারতীয় দলের ক্যাপ পাওয়া শাহবাজ আহমেদ এবং এসেই তিনি দেখাতে শুরু করেন কেন তিনি ভারতের জার্সি পেয়েছেন। তিনি ত্যাগরাসু নটরাজন, বরুণ চক্রবর্তী থেকে সঞ্জয় যাদব সবাইকেই খেলতে থাকেন সাবলীলভাবে এবং ২৭ বলে অপরাজিত ৪২ রান করেন ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে।
এরপর বল হাতে নিয়েও নিজের সেরা দেন শাহবাজ। সাই সুদর্শন এবং বাবা অপরাজিত যখন দলকে ধীরে ধীরে থিতু করছেন ম্যাচে, তখন অর্থাৎ ইনিংসের অষ্টম ওভারে বাবা অপরাজিত এবং সঞ্জয় যাদবকে ফিরিয়ে দেন শাহবাজ এবং সেইখান থেকেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে তামিলনাড়ু।
শাহবাজ ইনিংস শেষ করেন ৪-০-১৩-৩ বোলিং ফিগার নিয়ে।
৪)স্পিন চতুষ্টয়:-
শাহবাজ আহমেদ- ঋত্বিক চ্যাটার্জী- প্রদীপ্ত প্রামাণিক- করণ লাল। বাংলার চার স্পিনারই ছিলেন নিজেদের সেরা ফর্মে। অপরাজিত-সঞ্জয়কে ফিরিয়ে শাহবাজ প্রাথমিক ধাক্কা দেওয়ার পর আটোসাটো বোলিং শুরু করেন প্রত্যেকে। তামিলনাড়ুর পাওয়ার হিটার জি. আজিতেশকে ফেরান ঋত্বিক চ্যাটার্জী, ওয়াশিংটন সুন্দরকে ফেরান শাহবাজ আহমেদ। এরপর আস্কিং রেট যখন সপ্তমে, তখন ভয়ঙ্কর শাহরুখ খান প্রদীপ্ত প্রামাণিকের বলে ফিরে যান। এরপর ওপেনার সাই সুদর্শনকে প্রদীপ্ত ফেরালে ওখানেই তামিলনাড়ুর জয়ের স্বপ্নে দাঁড়ি পড়ে যায়।
চার স্পিনারের মধ্যে প্রত্যেকেই প্রায় ৬ এর কম ইকোনমিতে বল করেন। এবং তাদের মিলিত বোলিং ফিগার ছিল ১২-০-৫৭-৬। যেখানে তামিলনাড়ুর বরুণ চক্রবর্তীকে বাংলার ব্যাটাররা প্রায় ১০ এর ইকোনমিতে রান নিয়েছেন সেখানে এই বোলিং দুরন্ত প্রাপ্তি বলেই ধরতে হবে।