গ্রুপস্তরে সর্বজয়ী থাকার দোরগোড়ায় বাংলা

বিগতদিন ৬ উইকেট হারিয়ে এবং ২০০ এর বেশী রানে পিছিয়ে থাকা চন্ডিগড় আজ সকালে যে বিশেষ কিছু করবে সেই আশা কখনোই ছিলোনা এবং প্রত্যাশামতোই তা হয়নি। শুরুতেই আগের দিনের অপরাজিত ব্যাট গৌরব গম্ভীর মুকেশ কুমারের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফিরে গেলে ব্যাট করতে আসা জাসকারণ সিং কিছুটা ব্যাট চালিয়ে নিজের নামের পাশে ৩১ রান করলেও তা খুব একটা কাজে আসেনি পাঞ্জাবি দলটির। অন্যদিনের শেষ ওপেনার অঙ্কিত কৌশিক চন্ডীগড় দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন এবং তার ৬৩ এর জন্যই মূলত দুশো রানের গন্ডি টপকায় চন্ডীগড়। তুতো ভাই অভিষেক পোড়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ঈশান পোড়েলের বলে অঙ্কিত ফিরলে অবশিষ্ট শ্রেষ্ঠ নিমরোহির উইকেট নিয়ে ঈশান নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন। চন্ডীগড় দলের বিরুদ্ধে ২৩১ রানের লিড নিয়ে ফলো অন করানোর আশা থাকলেও সে রাস্তায় হাঁটেনি বাংলা।

ছবি : সিএবি

অবশ্য ফলো-অন না করানোর একটি কারণ ব্যাটসম্যানদের কিছুটা ম্যাচ প্র্যাক্টিস দেওয়া হলে অপরটা অবশ্যই স্কোরবোর্ডে খুব বাঁচোয়া রান তুলে জয়ের সম্ভাবনা কুক্ষিগত করা।

বাংলা শুরুতে ব্যাট করতে নামলে ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার দিকে যাননি সেই অর্থে। ধারাবাহিক ব্যর্থ সুদীপ কুমার ঘরামী এদিন শুরু থেকে ভয়ঙ্কররকম সাবধানী হলেও বড়ো ইনিংস গড়তে পারেননি। ৫৩ বল খেলে তার অবদান মাত্র ১৩ রান এবং বেঞ্চে অভিষেক রমণ এবং অভিষেক দাসের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান থাকতেও কিভাবে আর সুযোগ পাবেন সেই চিন্তা এখন তাঁর মাথায় আসতে বাধ্য। নিশ্চয়ই অরুণলালও ভেবেছেন এটি নিয়ে।

সুদীপ ঘরামী বাদ দিলে বাংলার হয়ে বলার মতো রান করেছেন অনুষ্টুপ মজুমদার (৪৩) এবং অভিষেক পোড়েল (৩৮) এবং সবশেষে শাহবাজ আহমেদ (৩২)। এছাড়া ব্যর্থ অভিমন্যু ঈশ্বরন (১৪), ঋত্বিক রায়চৌধুরী (৬), মনোজ তিওয়ারি (১৩) এবং সায়নশেখর মন্ডল (৯)।

চন্ডীগড় দলের হয়ে শ্রেষ্ট নিমরোহি, জাসকারণদীপ সিং, গুরিন্দর সিং এবং গৌরব গম্ভীর প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট পান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ঈশান পোড়েল এবং মুকেশ কুমারের দাপটে মাত্র ৪৭ বলের মেয়াদে দুটি উইকেট হারিয়েছে চন্ডীগড়। দুটি উইকেটের একটি গতবার বিজয় হাজারেতে বাংলাকে প্রায় একা হারানো আরসালান খান তো অপরটি সদ্য শেষ হওয়া অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের ভারতীয় তারকা হর্নুর সিং।

বর্তমানে হাতে ৮টি উইকেট এবং করতে হবে ৩৯৮ রান। এই জয়ের না কোনো ঐতিহাসিক রেকর্ড আছে না কোনো জয়ের বাস্তবিক ভিত্তি। উপরন্তু আগুনে মুকেশ-ঈশানের পাশে রয়েছেন গত ইনিংসে বিষোদ্গার করা নীলকণ্ঠ দাস। সুতরাং কাল বিরাট অঘটন না ঘটলে গ্রুপ স্টেজে সর্বজয়ী হয়ে ৭ তারিখ দমদম এয়ারপোর্টে নামছেন ঈশান-অভিমন্যুরা।